প্রার্থীতা বৈধ করতে স্ত্রীকে দিয়ে তালাক করিয়েছেন রাজশাহীর কাউন্সিলর প্রার্থী স্বপন
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকুল ইসলাম স্বপন। বিপদে আপদে সারাজীবন এক সঙ্গে থাকবেন এমনই শপথ করে ফরিদা ইসলামের সাথে ইসলাম ধর্মীয় বিধানমতে স্বপন সংসার জীবন শুরু করেছিলেন ৩০ মার্চ ১৯৮৯ সালে। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘর আলোকিত করে আসে মেয়ে তামিমা ইসলাম স্মৃতি। পরে জন্ম নেয় দুই ছেলে ফরহাদ হোসেন তমাল ও কমল। বর্তমানে স্মৃতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সেবিকা (নার্স)। বড় ছেলে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেছে। আর ছোট ছেলেও বেসরকারী প্রাথমিক স্কুলে অধ্যয়নরত। সাজানো গোছানো ৩১ বছরের সংসার জীবন স্বপনের। কিন্তু তাতে কি বা যা আসে। দাম্পত্য জীবন থাকুক বা না থাকুক সেটা মূখ্য বিষয় নয়, বিবাহ বিচ্ছেদটি তার কাছে কোন বিষয় নয়, কারণ কাউন্সিলর হতেই হবে। এমন বিভর স্বপ্নে ভুলে গেলেন ভোটারদের ধর্মীয় অনুভুতিও। অথচ, তরিকুল ইসলাম স্বপন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাকির মোড়স্থ মসজিদুল ফাতাহ্্ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকও বটে। অর্থ সম্পদ তো হয়েছে স্বপনের, এবার প্রয়োজন জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা। কিন্তু প্রার্থীতা বৈধ করতে বড় বাঁধা স্ত্রী। কারণ, হলফ নামায় স্ত্রী ফরিদা ইসলামের সম্পদ গোপন করা হয়েছে। স্বপনের স্ত্রী ফরিদা ইসলাম রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ও সরবরাহকারী। চলমান রয়েছে কয়েক কোটি টাকার কাজও। যে কারণে প্রার্থীতা বৈধ করতে বড় বাঁধা স্বপনের স্ত্রী। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। মুহুর্তের মধ্যে সবকিছু ভুলে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে দিয়েই গত ২১ জুন ৫নং ওয়ার্ডের কাজী মাও. মো. আবদুস সাত্তারের মাধ্যমে তালাক করিয়েছেন স্বপন। সেই কপি সিটি করপোরেশনেও জমা দেন গত ২৮ জুন। ভেবেছিলেন, তালাকের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও সিটি করপোরেশন ছাড়া আর কেউ জানতে পারবে না। পূর্বের মতই একই সাথে বসবাস করবেন তারা। করছেনও তাই। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বামী স্বপনের জন্য পুরোদমে নির্বাচনী মাঠে কাজও করছিলেন ফরিদা ইসলাম। কিন্তু আগামি ৩০ জুলাই নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ সময়ের প্রচারণায় স্বপনের হঠাৎই যেন হাটে ভেঙে গেল হাড়ি। ৬ নং ওয়ার্ডের জনবসতি রাস্তা ঘাটে কে বা কারা ফেলে গেছে স্বপনকে তালাক দেওয়ার শত শত ফটোপেপার। আঘাত আনলো ধর্মীয় অনুভুতিতেই। যেন মূহুর্তের মধ্যেই তলানিতে চলে গেল তরিকুল ইসলাম স্বপনের (মিস্টি কুমড়া)। এ ঘটনার পর স্বামী-স্ত্রী এক সাথে বসবাস করলেও নির্বাচনী মাঠ থেকে লজ্জায় সরে গেল স্ত্রী ফরিদা ইসলাম। বর্তমানে শুধু ৬নং ওয়ার্ডেই নয়, আশেপাশের এলাকাতেও স্বপনের স্ত্রীর তালাক নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। প্রথম অবস্থায় এটি গুজব বলে ধামাচাপার চেষ্টা করলেও তালাকের কপি ছড়িয়ে পড়ায় শেষ রক্ষা পাচ্ছেন না স্বপন। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তরিকুল ইসলাম স্বপনের বিরুদ্ধে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ত্রাণের টিন আত্মসাতের মামলা হয়। নাম প্রকাশ না করার সর্তে বাকির মোড়স্থ মসজিদুল ফাতাহ্্ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, প্রার্থীশভ বৈধ করতে যে মুসলমান স্ত্রীকে দিয়ে তালাক করিয়ে আবার একই সাথে বসবাস করে সে মসজিদ পরিচালনা কমিটির নের্তৃত্বে থাকতেই পারেনা। এ বিষয়ে সর্বক্ষন মুসল্লীরা একে অপরের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আসঙ্কাও করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন ভোটারদের আলোচনার একটাই স্বপনের ভোটগুলো তাহলে পাচ্ছে কে? এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে এ ওয়ার্ডে লড়াই হবে বর্তমান কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টুকু (টিফিন ক্যারিয়ার) ও বদিউজ্জামান বদির (ট্রাক্টর) মধ্যে। উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাসিক নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টুকুর সঙ্গে মাত্র ২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বদিউজ্জামান বদি। তালাকের বিষয়ে গতকাল বুধবার বিকালে তরিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে পারবো না। অসুস্থ থাকায় বাসা থেকে বের হচ্ছি না। আগামি ১ আগস্ট সাংবাদিক সম্মেলন করে এ বিষয়ে কথা বলব। উল্লেখ্য, এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ২৭৯ জন। এ ওয়ার্ডের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতের ওয়ার্ড আমির রেজাউল করিম রিপন (ঘুড়ি)। ওয়ার্ড ছাত্র লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি (ঠেলাগাড়ি) ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সদস্য ব্যবসায়ী মশিউল হক মুন্না (লাটিম)।